
অনেক অনেক আগে, আল্লাহ তাআলা এমন একটি সৃষ্টি করার ইচ্ছা করলেন, যে পৃথিবীতে বসবাস করবে এবং আল্লাহর ইবাদত করবে।
আল্লাহ তাআলা ফেরেশতাদের বললেন,
“আমি পৃথিবীতে একজন প্রতিনিধি সৃষ্টি করতে যাচ্ছি।”
ফেরেশতারা বললেন,
“হে আমাদের রব! আপনি কি সেখানে এমন কাউকে সৃষ্টি করবেন, যারা সেখানে অশান্তি সৃষ্টি করবে এবং রক্তপাত করবে?”
আল্লাহ বললেন,
“নিশ্চয়ই আমি এমন কিছু জানি, যা তোমরা জানো না।”
এরপর আল্লাহ তাআলা আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করলেন। তিনি ছিলেন পৃথিবীর প্রথম মানুষ এবং প্রথম নবী।
আল্লাহ তাআলা আদম (আ.)-কে অনেক কিছু শিখিয়ে দিলেন। তাঁকে বিভিন্ন জিনিসের নামও শেখালেন।

তারপর আল্লাহ তাআলা ফেরেশতাদের আদেশ করলেন,
“আদমকে সিজদা করো।”
সব ফেরেশতা আল্লাহর আদেশ মেনে আদম (আ.)-কে সিজদা করলেন।
কিন্তু সেখানে ইবলিসও ছিল। সে অহংকার করল।
সে বলল,
“আমি তার চেয়ে উত্তম। আপনি আমাকে আগুন দিয়ে সৃষ্টি করেছেন আর তাকে মাটি দিয়ে সৃষ্টি করেছেন।”
ইবলিস আল্লাহর আদেশ অমান্য করল।
তখন আল্লাহ তাকে বললেন যে, অহংকার করে তাঁর আদেশ অমান্য করার কারণে সে আল্লাহর রহমত থেকে দূরে থাকবে।
কিন্তু ইবলিস নিজের ভুলের জন্য ক্ষমা চাইল না। বরং সে বলল যে, সে মানুষকে ভুল পথে নেওয়ার চেষ্টা করবে।

আল্লাহ তাআলা আদম (আ.)-এর জন্য তাঁর স্ত্রীকে সৃষ্টি করলেন। তাঁরা জান্নাতে বসবাস করতে লাগলেন।
জান্নাতে তাঁদের জন্য অনেক সুন্দর ও সুস্বাদু খাবার ছিল।
আল্লাহ তাআলা তাঁদের বললেন,
“তোমরা জান্নাতে যেখানে ইচ্ছা খাও এবং আনন্দে থাকো। কিন্তু এই গাছটির কাছে যেও না।”

আদম (আ.) ও তাঁর স্ত্রী আল্লাহর এই আদেশ জানতেন।
কিন্তু ইবলিস তাঁদের ভুল পথে নেওয়ার চেষ্টা করতে লাগল।
সে তাঁদের মনে কুমন্ত্রণা দিতে লাগল এবং সেই নিষিদ্ধ গাছের ব্যাপারে প্রলুব্ধ করতে লাগল।
অবশেষে তাঁরা সেই গাছের ফল থেকে খেলেন।

তখন তাঁরা বুঝতে পারলেন যে তাঁরা ভুল করেছেন।
আদম (আ.) এবং তাঁর স্ত্রী সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহর কাছে ফিরে এলেন এবং ক্ষমা চাইলেন।
তাঁরা বললেন,
“হে আমাদের রব! আমরা নিজেদের প্রতি জুলুম করেছি। আপনি যদি আমাদের ক্ষমা না করেন এবং আমাদের প্রতি দয়া না করেন, তাহলে আমরা অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাব।”
আল্লাহ তাআলা তাঁদের তওবা কবুল করলেন।

এরপর আল্লাহর হুকুমে আদম (আ.) ও তাঁর স্ত্রী পৃথিবীতে চলে এলেন।
আদম (আ.) পৃথিবীতে মানুষের প্রথম পিতা এবং প্রথম নবী হিসেবে মানুষের জন্য আল্লাহর পথে চলার শিক্ষা দিতে শুরু করলেন।

গল্পের শিক্ষা
এই গল্প থেকে আমরা অনেক সুন্দর শিক্ষা পাই। ১. অহংকার করা যাবে না। ইবলিস অহংকার করেছিল এবং আল্লাহর আদেশ অমান্য করেছিল। ২. ভুল করলে আল্লাহর কাছে ফিরে আসতে হবে। আদম (আ.) ভুল করার পর আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন। ৩. আল্লাহর আদেশ মেনে চলতে হবে। আল্লাহ আমাদের যা করতে বলেছেন, তা মেনে চলা উচিত। ৪. শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে সাবধান থাকতে হবে। শয়তান মানুষকে ভুল পথে নেওয়ার চেষ্টা করে। ৫. আল্লাহ অত্যন্ত দয়ালু। আমরা ভুল করে ফেললে আন্তরিকভাবে তওবা করে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে পারি।








