
অনেক অনেক দিন আগের কথা।
অ্যান্ড্রোক্লিস নামে এক দাস ছিল।
একদিন সে তার মালিকের কাছ থেকে পালিয়ে গেল।
দৌড়াতে দৌড়াতে সে চলে গেল গভীর জঙ্গলে।
জঙ্গলের ভেতর দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ সে একটা অদ্ভুত শব্দ শুনতে পেল।
“গররর... উঁহু... আঃ...”
অ্যান্ড্রোক্লিস ভয় পেয়ে গেল।
সে ভাবল,
“ওহ! নিশ্চয়ই কোনো ভয়ংকর সিংহ!”
সে দৌড়ে পালাতে চাইল।
কিন্তু একটু পর দেখল, সিংহটি তার দিকে আসছে না।
বরং মাটিতে শুয়ে কষ্ট পাচ্ছে।

অ্যান্ড্রোক্লিসের মনে দয়া হলো।
সে ধীরে ধীরে সিংহটির কাছে গেল।
সিংহটি তখন তার একটি থাবা অ্যান্ড্রোক্লিসের দিকে বাড়িয়ে দিল।
থাবাটি ফুলে গিয়েছিল এবং খুব ব্যথা করছিল।
অ্যান্ড্রোক্লিস ভালো করে দেখে বুঝতে পারল, থাবার মধ্যে একটি বড় কাঁটা ঢুকে আছে।
সে বলল,
“আহা! তাই তো তোমার এত কষ্ট হচ্ছে!”
“ভয় পেও না, বন্ধু। আমি তোমাকে সাহায্য করছি।”
অ্যান্ড্রোক্লিস খুব সাবধানে কাঁটাটি বের করে দিল।
তারপর সিংহটির থাবাটি কাপড় দিয়ে বেঁধে দিল।

সিংহটি যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচল।
“হুমম... এখন বেশ ভালো লাগছে!”
সিংহটি অ্যান্ড্রোক্লিসের হাত চেটে দিল।
চাট! চাট!
অ্যান্ড্রোক্লিস অবাক হয়ে হেসে বলল,
“আরে! তুমি তো একেবারে পোষা কুকুরের মতো!”
সিংহটিও যেন খুশি হয়ে অ্যান্ড্রোক্লিসের দিকে তাকাল।

তারপর সিংহটি অ্যান্ড্রোক্লিসকে নিজের গুহায় নিয়ে গেল।
সেই থেকে তারা দুজন বন্ধু হয়ে গেল।
প্রতিদিন সিংহটি অ্যান্ড্রোক্লিসের জন্য খাবার নিয়ে আসত।
অ্যান্ড্রোক্লিসও সিংহটির যত্ন নিত।
তারা জঙ্গলে বেশ আনন্দেই দিন কাটাতে লাগল।

কিন্তু একদিন অ্যান্ড্রোক্লিস আর সিংহ—দুজনেই ধরা পড়ে গেল।
অ্যান্ড্রোক্লিসকে নিয়ে যাওয়া হলো রাজার সামনে।
আর সিংহটিকেও রাখা হলো আলাদা জায়গায়।
কিছুদিন পর অ্যান্ড্রোক্লিসকে একটি বড় ময়দানে নিয়ে আসা হলো।
চারপাশে অনেক মানুষ দাঁড়িয়ে ছিল।
সবাই অপেক্ষা করছিল কী হয় তা দেখার জন্য।
হঠাৎ—
গররররর!
একটি সিংহ দৌড়ে ময়দানে ঢুকল!
সে অ্যান্ড্রোক্লিসের দিকে ছুটে আসতে লাগল।
অ্যান্ড্রোক্লিস ভয় পেয়ে গেল।
কিন্তু সিংহটি কাছে আসতেই থেমে গেল।
সে অ্যান্ড্রোক্লিসের দিকে ভালো করে তাকাল।
তারপর—
“আরে! এ তো আমার বন্ধু!”
সিংহটি আনন্দে অ্যান্ড্রোক্লিসের কাছে ছুটে গেল।
তারপর তার চারপাশে ঘুরতে লাগল।
অ্যান্ড্রোক্লিসের হাত চেটে দিতে লাগল।
চাট! চাট!
অ্যান্ড্রোক্লিসও সিংহটিকে দেখে আনন্দে বলল,
“তুমি আমাকে চিনতে পেরেছ!”
চারপাশের সবাই অবাক হয়ে গেল!

রাজাও খুব অবাক হলেন।
তিনি অ্যান্ড্রোক্লিসকে কাছে ডেকে জিজ্ঞেস করলেন,
“এই সিংহ তোমার সঙ্গে এমন বন্ধুর মতো আচরণ করছে কেন?”
অ্যান্ড্রোক্লিস তখন রাজাকে পুরো ঘটনা খুলে বলল।
সে বলল,
“একদিন সিংহটির থাবায় কাঁটা ঢুকে গিয়েছিল।”
“আমি তার কষ্ট দেখে তাকে সাহায্য করেছিলাম।”
“সেই থেকেই আমরা বন্ধু।”
রাজা সব শুনে খুব খুশি হলেন।
তিনি বললেন,
“যে এত দয়ালু এবং সাহসী, তাকে শাস্তি দেওয়া উচিত নয়।”
তাই রাজা অ্যান্ড্রোক্লিসকে মুক্ত করে দিলেন।
আর সিংহকেও আবার তার নিজের জঙ্গলে ফিরে যেতে দেওয়া হলো।
অ্যান্ড্রোক্লিস আর সিংহ দুজনেই যেন মনে মনে বলল,
“বন্ধুত্ব কখনো ভুলে যাওয়া যায় না!”

গল্পের শিক্ষা
যে ভালোবাসা ও সাহায্য করে, তার ভালোবাসা একদিন ফিরে আসে। কৃতজ্ঞতা হলো মহৎ হৃদয়ের পরিচয়।








