
অনেক অনেক দিন আগের কথা। এক পুরোনো শহরে বাস করতেন হযরত ইবরাহিম (আ.)। তিনি ছিলেন আল্লাহর একজন প্রিয় নবী। তিনি ছিলেন খুব সাহসী, বুদ্ধিমান এবং সত্যবাদী।

সেই শহরের মানুষ নিজের হাতে তৈরি করা মূর্তিগুলোর পূজা করত। তারা মূর্তিগুলোর সামনে মাথা নত করত এবং তাদের কাছে নানা কিছু চাইত।
হযরত ইবরাহিম (আ.) অবাক হয়ে তাঁদের জিজ্ঞেস করলেন,
“তোমরা যেসব মূর্তির পূজা করো, তারা কি তোমাদের কথা শুনতে পায়? তারা কি তোমাদের সাহায্য করতে পারে?”
মানুষগুলো কোনো উত্তর দিতে পারল না। কারণ তারা জানত, মূর্তিগুলো কথা বলতে পারে না, কাউকে সাহায্যও করতে পারে না।
তবুও তারা নিজেদের ভুল বুঝতে চাইল না।

একদিন মন্দিরের সবাই বাইরে চলে গেল। সেখানে কেউ ছিল না।
হযরত ইবরাহিম (আ.) মূর্তিগুলো ভেঙে ফেললেন। তবে সবচেয়ে বড় মূর্তিটি ভাঙলেন না।

কিছুক্ষণ পর মানুষগুলো ফিরে এসে মূর্তিগুলো ভাঙা দেখে খুব রেগে গেল।
তারা জিজ্ঞেস করল, “আমাদের মূর্তিগুলো কে ভেঙেছে?”
হযরত ইবরাহিম (আ.) বললেন,
“তোমরা বড় মূর্তিটিকে জিজ্ঞেস করো। যদি সে কথা বলতে পারে, তাহলে হয়তো তোমাদের উত্তর দিতে পারবে!”
মানুষগুলো চুপ হয়ে গেল। তারা তো নিজেরাই জানত, মূর্তি কথা বলতে পারে না! তারা কিছু শুনতেও পায় না, কাউকে সাহায্যও করতে পারে না।
কিন্তু নিজেদের ভুল স্বীকার করার বদলে তারা আরও রেগে গেল।

রাগ করে তারা একটি বিশাল আগুন জ্বালাল। তারপর হযরত ইবরাহিম (আ.)-কে সেই আগুনে নিক্ষেপ করল।
কিন্তু হযরত ইবরাহিম (আ.) ভয় পেলেন না। কারণ তিনি জানতেন, আল্লাহ সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান। তিনি একমাত্র আল্লাহর ওপরই ভরসা করতেন।

তখন আল্লাহ আগুনকে একটি বিশেষ নির্দেশ দিলেন।
আল্লাহ বললেন,
“হে আগুন! তুমি ইবরাহিমের জন্য শীতল ও নিরাপদ হয়ে যাও।”
আর তখনই এক আশ্চর্য ঘটনা ঘটল!
আগুন হযরত ইবরাহিম (আ.)-এর কোনো ক্ষতি করল না। তিনি আগুনের মাঝখানেও সম্পূর্ণ নিরাপদে রইলেন।
আল্লাহর নির্দেশে আগুন তাঁর জন্য শীতল ও নিরাপদ হয়ে গেল!
পবিত্র কুরআনের সূরা আল-আম্বিয়া, ২১ নম্বর সূরার ৬৯ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন:
“হে আগুন! তুমি ইবরাহিমের জন্য শীতল ও নিরাপদ হয়ে যাও।”

গল্পের শিক্ষা
সত্যের পথে সাহসী হও এবং একমাত্র আল্লাহর ওপর ভরসা রাখো। হযরত ইবরাহিম (আ.) আমাদের শেখান—সত্য কথা বলতে হয় এবং ভুল কাজের সামনে মাথা নত করা যায় না। সব সময় আল্লাহর ওপর ভরসা রাখো। মনে রেখো, আল্লাহ সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান। তিনি যা চান, তাই করতে পারেন।








