
একদিনের কথা।
পাখি আর বন্য প্রাণীদের মধ্যে ভীষণ ঝামেলা শুরু হতে যাচ্ছিল।
মনে হচ্ছিল, এখনই বুঝি—
যুদ্ধ! যুদ্ধ!
দুই দলের প্রাণীরা এক জায়গায় জড়ো হতে লাগল।
পাখিরা একদিকে।
আর বন্য প্রাণীরা অন্যদিকে।
সবাই যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হচ্ছিল।

একটি বাদুড় তখন গাছের ডালে বসে সব দেখছিল।
কিন্তু বাদুড় খুব চিন্তায় পড়ে গেল।
সে ভাবল,
“আমি কোন দলে যাব?”
“পাখিদের সঙ্গে যাব?”
“নাকি বন্য প্রাণীদের সঙ্গে?”

ঠিক তখন কয়েকটি পাখি তার পাশ দিয়ে উড়ে গেল।
তারা বলল,
“বন্ধু বাদুড়! আমাদের সঙ্গে চলো!”
বাদুড় তাড়াতাড়ি বলল,
“না না! আমি তো আসলে বন্য প্রাণীদের একজন!”
পাখিরা চলে গেল।
কিছুক্ষণ পর কয়েকটি বন্য প্রাণী তার গাছের নিচ দিয়ে যাচ্ছিল।
তারা ওপরের দিকে তাকিয়ে বলল,
“বাদুড়! আমাদের সঙ্গে চলো!”
বাদুড় এবার বলল,
“ওহ... না! আমি তো আসলে পাখি!”
এভাবেই বাদুড় দুই দলের সঙ্গেই নিজের পরিচয় বদলাতে লাগল।

কিন্তু ভাগ্য ভালো!
শেষ মুহূর্তে দুই দলের মধ্যে শান্তি হয়ে গেল।
কোনো যুদ্ধই হলো না!
সবাই আনন্দ করতে শুরু করল।
বাদুড় ভাবল,
“হুররে! এবার তো আমিও পাখিদের সঙ্গে আনন্দ করতে পারি!”
সে পাখিদের কাছে উড়ে গেল।
কিন্তু পাখিরা তাকে দেখে বলল,
“এই যে! তুমি তো বলেছিলে তুমি বন্য প্রাণী!”
“আমাদের সঙ্গে এখন কেন?”
পাখিরা তাকে নিজেদের দলে নিল না।
বাদুড় মন খারাপ করে সেখান থেকে উড়ে গেল।
তারপর সে বন্য প্রাণীদের কাছে গেল।
কিন্তু তারাও বলল,
“তুমিও তো বলেছিলে তুমি পাখি!”
“এখন আবার আমাদের সঙ্গে আসছ কেন?”
বাদুড় ভয়ে সেখান থেকেও পালিয়ে গেল।
সে একা একা গাছের ডালে ফিরে এসে ভাবতে লাগল।
“হুমম... এবার বুঝলাম!”
“আমি যখন পাখিদের কাছে ছিলাম, তখন বলেছি আমি বন্য প্রাণী।”
“আবার বন্য প্রাণীদের কাছে গিয়ে বলেছি আমি পাখি।”
“আমি কারও সত্যিকারের বন্ধু হতে পারিনি।”
বাদুড় তখন বুঝল—

গল্পের শিক্ষা
সবসময় নিজের সুবিধার জন্য এদিক-ওদিক পরিচয় বদলানো ঠিক নয়। যে মানুষ বা প্রাণী কোনো পক্ষেই সত্যি থাকে না, সে শেষ পর্যন্ত বন্ধুহীন হয়ে যেতে পারে। নিজের পরিচয় ও অবস্থানে সৎ থাকাই ভালো।








