
একদিন এক নেকড়ে অনেক দিন ধরে ঠিকমতো খাবার পায়নি। খিদেতে তার পেটটা কেমন গুড়গুড় করছিল! শরীরও শুকিয়ে একেবারে রোগা হয়ে গেছে।
এমন সময় তার দেখা হলো এক সুন্দর, গোলগাল আর স্বাস্থ্যবান বাড়ির কুকুরের সঙ্গে।
কুকুরটি নেকড়েকে দেখে বলল, — “আরে ভাই! এ কী অবস্থা তোমার?” — “দেখেই বোঝা যাচ্ছে, সারাদিন ঘুরে বেড়ানোর ফল! এভাবে চললে তো তুমি একদিন একেবারে শুকিয়ে যাবে!”

নেকড়ে লম্বা একটা নিশ্বাস ফেলল। — “হুমম… তুমি ঠিকই বলেছ। কিন্তু কী করব? কেউ যদি আমাকে নিয়মিত খাবার দিত, তাহলে আমারও কোনো আপত্তি ছিল না।”
কুকুরটি খুশি হয়ে লেজ নাড়ল। — “ব্যস! এতটুকু ব্যাপার? চলো আমার সঙ্গে! আমার মালিকের বাড়িতে কাজ করবে। আর তোমার খাবারও হবে একদম নিয়মিত!”
নেকড়ের চোখ চকচক করে উঠল। — “সত্যি! রোজ রোজ খাবার?”
— “অবশ্যই!” বলল কুকুর। — “চলো, আমার সঙ্গে।”

তারপর দুজনে শহরের দিকে হাঁটতে শুরু করল। টুপটাপ! টুপটাপ!
হাঁটতে হাঁটতে নেকড়ে হঠাৎ কুকুরের গলার দিকে তাকাল।
— “আচ্ছা ভাই, তোমার গলার ওই জায়গার লোমগুলো উঠে গেছে কেন?”
কুকুরটি একটু হেসে বলল, — “ওহ, ওটা? কিছু না! রাতে আমাকে একটা কলার দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। সেই কলারটা ঘষা লাগায় লোম একটু উঠে গেছে। শুরুতে একটু অস্বস্তি হয়, পরে অভ্যাস হয়ে যায়।”

নেকড়ে থমকে দাঁড়াল।
— “কী বললে? তোমাকে… বেঁধে রাখা হয়?”
— “হ্যাঁ, তবে খাবার তো রোজই পাই!”
নেকড়ে একবার মোটা-তাজা কুকুরটির দিকে তাকাল। তারপর নিজের দিকে তাকাল। তারপর বলল—
— “না ভাই, থাক! তোমার সেই রোজকার খাবার তোমাকেই খেতে দাও!”
কুকুর অবাক! — “কেন? কোথায় যাচ্ছ?”
নেকড়ে হাসল।

— “আমি রোগা হতে পারি, খিদেও পেতে পারে… কিন্তু আমি স্বাধীন!” — “তোমার মতো পেটভরা বন্দি হওয়ার চেয়ে, স্বাধীন থেকে খিদে পাওয়া অনেক ভালো!”
এই বলে নেকড়ে দৌড়! দিল জঙ্গলের দিকে।
আর কুকুরটি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ভাবতে লাগল… “হুমম… কথাটা কিন্তু মন্দ বলেনি!”

গল্পের শিক্ষা
পেটভরা বন্দি থাকার চেয়ে স্বাধীন থাকা অনেক ভালো।








