
একদিনের কথা।
একটি হরিণ পুকুরের ধারে পানি খেতে এসেছিল।
পানি খাওয়ার পর সে পুকুরের পানিতে নিজের ছায়া দেখতে পেল।
হরিণটি নিজের ছায়ার দিকে তাকিয়ে মুগ্ধ হয়ে গেল।
সে মনে মনে বলল,
“আহা! আমার শিং দুটো কী সুন্দর!”
“এমন সুন্দর শিং আর কার আছে?”
সে পানিতে নিজের শিং দেখে মাথা নাড়তে লাগল।
তারপর নিজের পায়ের দিকে তাকিয়ে একটু মন খারাপ করল।
“কিন্তু আমার পা দুটো যদি একটু সুন্দর হতো!”
“এই চিকন চিকন পা দিয়ে কি আর আমার এত সুন্দর শিং বহন করা মানায়?”

“ইশ! আমার পা দুটো যদি শিংয়ের মতো সুন্দর হতো!”
ঠিক তখনই—
শোঁওও!
একজন শিকারি সেখানে এসে হরিণটিকে লক্ষ্য করে তীর ছুড়ল!
হরিণটি ভয় পেয়ে দৌড় দিল।
ধুপধাপ! ধুপধাপ!

তার চিকন পা যেন বাতাসের মতো ছুটতে লাগল।
এক দৌড়ে সে শিকারির থেকে অনেক দূরে চলে গেল।
শিকারি অনেক চেষ্টা করেও তাকে ধরতে পারছিল না।
হরিণ মনে মনে ভাবল,
“হুররে! আমার পা তো বেশ দ্রুত!”
কিন্তু দৌড়াতে দৌড়াতে সে কোথায় যাচ্ছে, সেদিকে আর খেয়াল করল না।
হঠাৎ সে কয়েকটি নিচু ডালওয়ালা গাছের নিচ দিয়ে দৌড়ে গেল।

আর তখনই—
আটকে গেল!
তার সুন্দর বড় বড় শিং গাছের ডালের মধ্যে আটকে গেল।
হরিণ অনেক চেষ্টা করেও শিং ছাড়াতে পারল না।
এদিকে শিকারি দৌড়ে দৌড়ে তার কাছে চলে এল।
হরিণ তখন খুব দুঃখ করে বলল,
“আহা! কী ভুলই না করেছি!”
“যে পাগুলোকে আমি এতক্ষণ খারাপ ভাবছিলাম, সেই পাগুলোই তো আমাকে বাঁচিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল!”
“আর যে শিংগুলোকে আমি এত সুন্দর ভাবছিলাম, সেই শিংয়ের কারণেই আজ আমি বিপদে পড়েছি!”

গল্পের শিক্ষা
আমরা অনেক সময় যে জিনিসকে ছোট বা দুর্বল মনে করি, সেটিই আসলে আমাদের সবচেয়ে বেশি কাজে লাগে। তাই নিজের কোনো গুণকে অবহেলা করা উচিত নয়। যা আমাদের সবচেয়ে বেশি উপকার করে, অনেক সময় আমরা ভুল করে সেটাকেই অবহেলা করি।








